ঢাকা , শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ , ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে বড় আঘাত গণতান্ত্রিক স্থিতিশীল শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন মোদির দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করতে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড এমওইউ মোদীকে দশ বছর আগের কথা মনে করিয়ে ছবি উপহার ইউনূসের নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ-ভারত বাস চালকের হদিস মেলেনি আহত শিশু আরাধ্যকে ঢাকায় হস্তান্তর নিহত বেড়ে ১১ স্বস্তির ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরলো ৬০ প্রাণ চালের চেয়েও ছোট পেসমেকার বানালেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা আ’লীগের নেতাদের রাজকীয় ঈদ উদযাপনে ক্ষুব্ধ কর্মীরা আন্দোলনে ফিরবেন বেসরকারি কলেজ শিক্ষকরা মাদারীপুরে আগুনে পুড়ল ২ বাড়ি ভৈরবের ত্রি-সেতুতে দর্শনার্থীদের ভিড় বর্ষবরণের আয়োজন, পাহাড়ে উৎসবের রঙ ঈদের আমেজ কাটেনি বিনোদন স্পটে ভিড় আ’লীগকে নিষিদ্ধ করা বিএনপির দায়িত্ব নয় নতুন নিয়মে বিপাকে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো ঈদের আগে বেতন-বোনাস পেয়ে স্বস্তিতে সাড়ে ৩ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ঈদযাত্রায় সদরঘাটে চিরচেনা ভিড় মিয়ানমারে ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা
ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলন

নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ-ভারত

  • আপলোড সময় : ০৪-০৪-২০২৫ ১১:৫৪:০১ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৪-০৪-২০২৫ ১১:৫৪:০১ অপরাহ্ন
নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ-ভারত
ইউনূস-মোদীর বৈঠক
* শেখ হাসিনাকে ফেরত, সীমান্ত হত্যা ও তিস্তা নিয়ে আলোচনা * নৈশভোজের টেবিলে ড. মুহাম্মদ ইউনূস নরেন্দ্র মোদি পাশাপাশি * চীন সফরে প্রধান উপদেষ্টার মন্তব্যে ভারতজুড়ে তোলপাড়

ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এছাড়াও বৈঠকে সীমান্তে হত্যা, তিস্তা নদীর পানি বণ্টনসহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এদিন ২০১৫ সালের ৩ জানুয়ারি মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত ১০২তম ভারতীয় বিজ্ঞান কংগ্রেসে প্রফেসর ইউনূসের হাতে স্বর্ণপদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তারই একটি আলোকচিত্র ভারতের প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। গতকাল শুক্রবার দুপুরে দুই প্রতিবেশি নেতার মধ্যে আধা ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়। এতে ‘দুই দেশের দুই নেতার বৈঠকের মধ্যদিয়ে নতুন সমীকরণে ভারত-বাংলাদেশ’ এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে সম্প্রতি চীন সফরে গিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ‘সেভেন সিস্টার্স’ খ্যাত সাতটি রাজ্য নিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের করা মন্তব্যে ভারতজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এরপরও বাংলাদেশ আশাবাদি ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এতে সবকিছু ভুলে নতুন সমীকরণের দিকে অগ্রসর হবে ভারত-বাংলাদেশ।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের সরকার প্রধানের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি অত্যন্ত গঠনমূলক ও ফলপ্রসূ হয়েছে। আমাদের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং ভারতে বসে তিনি উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন, এসব বিষয় বৈঠকে তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া সীমান্তে হত্যা, তিস্তা নদীর পানি বণ্টনসহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথমবারের মতো অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হলো। এই বৈঠককে বাংলাদেশে জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের পর থেকে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসাবে দেখা হচ্ছে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, প্রধান উপদেষ্টার উচ্চ প্রতিনিধি খলিলুর রহমান, এসডিজি বিষয়ক প্রধান সমন্বয়কারী লামিয়া মোর্শেদ, সিএ-এর প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং পররাষ্ট্র সচিব মো. জসিমসহ অন্যান্যরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোটের (বিমসটেক) শীর্ষ সম্মেলন ২ থেকে ৪ এপ্রিল ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে অংশ নিয়েছেন ভুটান, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড ও বাংলাদেশের সরকার প্রধানরা। এই সম্মেলনের লক্ষ্য হলো সাতটি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করা, যাতে একসঙ্গে নিরাপত্তা এবং উন্নয়নমূলক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা যায়। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, বিমসটেক বিপুল সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারে যদি সদস্য-রাষ্ট্রগুলি সংকীর্ণ রাজনীতি এবং অভ্যন্তরীণ লক্ষ্যগুলি বাদ দিয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতাকে শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দেয়। ২০০০ সালে ৫ বিলিয়ন ডলার থেকে ২০২৩ সালে আন্তঃবিমসটেক বাণিজ্য বেড়ে ৬০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বিমসটেক সদস্য দেশগুলোর জনসংখ্যা ১৬৭ কোটি। মোট জিডিপি ২.৮৮ ট্রিলিয়ন ডলার।
ব্যাংককে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মধ্যকার অনুষ্ঠিত বৈঠকটি অত্যন্ত গঠনমূলক, কার্যকর ও ফলপ্রসূ হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। প্রেস সচিব জানান, পারস্পরিক আলোচনায় প্রধান উপদেষ্টা গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, ভারতে বসে শেখ হাসিনার উসকানিমূলক কথাবার্তা, সীমান্ত হত্যা, দুই দেশের মধ্যে গঙ্গা ও তিস্তা পানি চুক্তি নিয়ে কথা বলেন।
নৈশভোজের টেবিলে ইউনূস-মোদি পাশাপাশি: বিমসটেক সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক নৈশভোজে যোগ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। একই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় থাইল্যান্ডের ব্যাংককের একটি হোটেলে নৈশভোজের টেবিলে তাদের দু’জনকে এক টেবিলে পাশাপাশি বসতে দেখা গেছে। এদিন সন্ধ্যায় নৈশভোজের বেশ কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যায়। ছবিগুলো পেছন থেকে তোলা হয়েছে। কিছুটা দূর থেকে তোলা ছবিগুলো পোস্ট করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। ছবিগুলো পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেছেন ব্যাংককে বিমসটেকের অফিসিয়াল ডিনার। নৈশভোজে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পাইতংতার্ন সিনাওয়াত্রার সঙ্গে ছবি তোলেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ইউনূস। এছাড়া সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানরাও গ্রুপ ছবি তোলেন। দুই দিনের সফরে থাইল্যান্ড গিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংককে অবস্থান করছেন তিনি। গতকাল শুক্রবার বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাচ্ছে বাংলাদেশ। প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া সম্মেলনের সাইডলাইনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের কথা আলোচনায় আছে। তবে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ নিশ্চিত করেনি।
প্রধান উপদেষ্টার মন্তব্যে ভারতজুড়ে তোলপাড়: সম্প্রতি চীন সফরে গিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ‘সভেন সিস্টার্স’ খ্যাত সাতটি রাজ্য নিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের করা মন্তব্যে ভারতজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ড. ইউনূস ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে স্থলবেষ্টিত এবং বাংলাদেশকে এই অঞ্চলের সমুদ্র প্রবেশাধিকারের অভিভাবক হিসেবে উল্লেখ করেন। তার এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। একইসঙ্গে বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। সংবাদমাধ্যমটি বলছে, বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ‘স্থলবেষ্টিত’ বলে বর্ণনা করার এবং বাংলাদেশকে এই অঞ্চলের ‘সমুদ্র প্রবেশাধিকারের অভিভাবক’ হিসেবে উল্লেখ করার কয়েকদিন পর গত বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। জয়শঙ্কর বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি সেক্টোরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো অপরেশন (বিমসটেক) ??-এ ভারতের কৌশলগত ভূমিকা তুলে ধরেন এবং ভারতের ৬ হাজার ৫০০ কিলোমিটার উপকূলরেখা এবং পাঁচটি বিমসটেক সদস্যের সাথে ভারতের ভৌগোলিক সংযোগের ওপর আলোকপাত করেন।
জয়শঙ্কর এক বিবৃতিতে বলেছেন, সর্বোপরি, আমাদের বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা রয়েছে, যা প্রায় ৬ হাজার ৫০০ কিলোমিটার। ভারত কেবল পাঁচটি বিমসটেক সদস্যের সাথেই সীমান্ত ভাগ করে না, তাদের বেশিরভাগকে সংযুক্তও করে এবং ভারতীয় উপমহাদেশ ও আসিয়ানের মধ্যে সংযোগের একটি বড় অংশও প্রদান করে। জয়শঙ্কর দাবি করেন, বিশেষ করে আমাদের উত্তর-পূর্ব অঞ্চল বিমসটেকের জন্য একটি ‘সংযোগ কেন্দ্র হিসেবে’ আবির্ভূত হচ্ছে, যেখানে সড়ক, রেলপথ, পানিপথ, গ্রিড এবং পাইপলাইনের অসংখ্য নেটওয়ার্ক রয়েছে। ভারতীয় এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও দাবি করেন, আমরা সচেতন যে-এই বৃহত্তর ভৌগোলিক ক্ষেত্রে পণ্য, পরিষেবা এবং মানুষের সুষ্ঠু প্রবাহের জন্য আমাদের সহযোগিতা এবং সুবিধা প্রদান একটি অপরিহার্য পূর্বশর্ত। এই ভূ-কৌশলগত বিষয়কে মাথায় রেখে, আমরা গত দশকে বিমসটেক-কে শক্তিশালী করার জন্য ক্রমবর্ধমান শক্তি এবং মনোযোগ নিবেদিত করেছি। আমরা আরও বিশ্বাস করি যে- সহযোগিতা একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি, চেরি-পিকিং (পক্ষপাতদুষ্ট) বিষয় নয়। সম্প্রতি চার দিনের চীন সফরে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যের ব্যবসায়িক সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ভারতের পূর্বাঞ্চলের সেভেন সিস্টার্স নামে পরিচিত সাতটি রাজ্য। এই রাজ্যগুলো ভারতের স্থলবেষ্টিত অঞ্চল। সমুদ্রে পৌঁছানোর জন্য তাদের যোগাযোগের কোনও উপায় নেই। এই অঞ্চলের জন্য সমুদ্রের একমাত্র অভিভাবক বাংলাদেশ। তিনি বলেন, এটি বিশাল এক সম্ভাবনা উন্মোচন করে। এটি চীনা অর্থনীতির একটি সম্প্রসারণও হতে পারে। মূলত ড. মূহাম্মদ ইউনূসের এই মন্তব্য নিয়ে ভারতের রাজনীতিবিদ, সাবেক আমলা ও নীতিনির্ধারকদের মাঝে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স